April 18, 2026, 5:46 pm
কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের ঋণ বিতরণে আরো তিন মাস সময় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ দিয়ে পাশে থাকার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে।
মহামরি করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ২০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের বিশেষ ঋণ সুবিধার ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু ঋণ বিতরণে খরচ বেশি, আয় কম, জামানতের অভাবসহ বিভিন্ন অজুহাতে ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে অনিহা দেখাচ্ছে। এমন অবস্থায় ঋণ দ্রুত দেয়ার জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি সিএমএসএমই প্যাকেজের ঋণ বিতরণ সম্পন্ন করতে চলতি বছরের ৩১ আগস্টের পরিবর্তে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি।
করোনায় ঘোষিত বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ দ্রুত বাস্তবায়নে ব্যাংক এবং নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির সভাপতিত্বে বৈঠকে ১৫টি বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং চারটি এনবিএফআইয়ের এমডি ও প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো সিরাজুল ইসলাম জানান, সরকার নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। কিন্তু বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ আসছে যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ তহবিল থেকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে না। এজন্য গভর্নর আজকে ১৫ টি ব্যাংক ও চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এমডি ও নির্বাহীদের ডেকে বলেছেন যেকোনো মূল্যে প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ বিতরণ করতে হবে।
এসময় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে ঋণ বিতরণের জন্য আগামী ৩১ আগস্টের পরিবর্তে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চান। কিন্তু গভর্নর ডিসেম্বর পর্যন্ত না বাড়িয়ে, ঋণ বিতরণ সম্পন্ন করতে চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। যার যার টার্গেট রয়েছে তাদের নির্ধারিত সময়ে ঋণ বিতরণ সম্পন্ন করতে বলা হয়।
এদিকে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় প্রায় এক লাখ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করে সরকার।
এর মধ্যে সিএমএসএমই খাতের ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ সুবিধার ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ঋণের সুদ ৯ শতাংশ হিসাব করা হলেও ঋণগ্রহীতাদের দিতে হবে ৪ শতাংশ সুদ। অবশিষ্ট ৫ শতাংশ সুদের অর্থ সরকার ভর্তুকি আকারে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে দিয়ে দেবে।
সিএমএসএমই খাতের ঋণ বিতরণে উৎসাহিত করতে ইতিমধ্যে নীতিমালার বিভিন্ন শিথিল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেয়া হয়েছে নানা সুযোগ সুবিধা।